মস্ত উন্নত শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলো – যেমন বেলজিয়াম, জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি – অর্থনৈতিক অন্তর্বস্তুর বিচারে এবং অর্থনৈতিক বিকাশের স্তরের দিক থেকে বিচার করলে (লগ্নি পুঁজির আধিপত্যে ক্ষয়িষ্ণু, পরজীবী, একচেটিয়া পুঁজিবাদ হিসাবে) সাম্রাজ্যবাদী দেশ বলে গণ্য। এদের মধ্যে অনেকেই বিপুল সামরিক শক্তির অধিকারী এবং মাঝে মধ্যে তা ব্যবহারও করে। কিন্তু এদের মধ্যে একটিমাত্র দেশ বিশ্বজনগণের এক নম্বর শত্রু বলে কুখ্যাতি অর্জন করেছে।

পুঁজিবাদের প্রথম পর্বের বিশ্বজোড়া সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিয়েছিল স্পেন, হল্যান্ড, ইংল্যান্ডের মতো বাণিজ্যিক এবং নৌ-শক্তির অধিকারীরা। দ্বিতীয় পর্বে নেতৃত্ব দেয় ইংল্যান্ড (কারণ তা ছিল শিল্প বিপ্লবের জন্মভূমি) এবং তৃতীয় পর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে হল বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তি বিপ্লবে অগ্রগণ্য এবং এতাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ অর্থনৈতিক (এবং সেই সঙ্গে সামরিক) শক্তি। সুতরাং এটাই স্বাভাবিক যে পূর্বেকার পর্যায়ের স্পেন এবং ইংল্যান্ডের মতো আজকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রভাবাধীন এলাকা সম্প্রসারিত করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেই যাতে বিশ্বে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা যায়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য (যেমনটি এরিক হবসওয়ম সম্প্রতি 'গার্ডিয়ান' পত্রিকায় ২০০৩-এর মধ্যভাগে লেখা একটি প্রবন্ধে দেখিয়েছেন) হল, অন্যান্য সাম্রাজ্যগুলো জানত যে তারাই একমাত্র শক্তি নয় – তাদেরকে অন্যান্য শক্তিশালী দেশের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু আমেরিকার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সেরকম নয়। অপর বৃহৎশক্তিটির পতনের পর সে মনে করছে সেই হল একচ্ছত্র সম্রাট – এবং সে সেইমতো কাজ করছে। যেখানে ব্রিটিশদের ক্ষমতার শীর্ষে থাকার সময়ও বিশ্বের এক-চতুর্থাংশের বেশি অংশের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল না, সেখানে মার্কিন সাম্রাজ্যের রয়েছে গোটা পৃথিবীর ওপর সার্বিক আধিপত্যের জন্য অভিযান চালানোর মতো অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক হাতিয়ার। এই হচ্ছে আমাদের সময়ের 'সাম্রাজ্য' – নেগ্রি এবং হার্ড যে উত্তর-সাম্রাজ্যবাদী অর্থে কথাটি ব্যবহার করেছেন সেই অর্থে নয় – আজকের সাম্রাজ্যবাদের সর্বোচ্চ (এবং হয়তো বা শেষ – কে জানে?) ফসল হিসাবে, যেমন ছিল অতীতের ফ্যাসিবাদ। ইতিহাসে অন্যান্য সাম্রাজ্যের যে পরিণতি হয়েছিল সেই একই পরিণতি আমেরিকার জন্যও অপেক্ষা করে রয়েছে।